পিমসের (PIMS) অগ্নিকাণ্ড: সাময়িক বরখাস্ত ও ফৌজদারি ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পিমসের আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ফৌজদারি কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে দেখা গেছে, যে ওয়ার্ডে নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাই ছিল না।

মতামত দিন

অনুবাদ: থার্সডে এআই। মূল লেখাটিই প্রামাণ্য। মূল লেখা পড়ুন

PM Shehbaz Sharif ordered eight PIMS officials suspended and criminal proceedings launched after an investigation found no fire safety systems in the ward where newborns died. — FILE/THE THURSDAY TIMES
প্রধানমন্ত্রী (PM) শাহবাজ শরীফ পিআইএমএসের (PIMS) আটজন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করার এবং ফৌজদারি কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে নবজাতকদের মৃত্যু হওয়া ওয়ার্ডে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি পাওয়া যাওয়ার পর তিনি এ নির্দেশ দেন। — ফাইল/দ্য থার্সডে টাইমস

লাহোর (দ্য থার্সডে টাইমস) — হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পিমস (PIMS) হাসপাতালের আট কর্মকর্তাকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির অন্তর্বর্তী পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রায় দুই মিনিটের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ উপস্থাপন করা হয়। তিনি কমিটির চিহ্নিত আট কর্মকর্তাকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্তের অনুমোদন দেন এবং নির্দেশ দেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, পাকিস্তানের ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া চালাতে হবে "কোনো বৈষম্য ছাড়াই"।

বিজ্ঞপ্তিতে যে আট কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন পিমসের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ইমরান সিকান্দার; যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক ডা. মুতাহির শাহ ও চৌধুরী ডা. ওয়াইস আলী শাহ; নবজাতক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাদিয়া রিয়াজ; সিনিয়র রেজিস্ট্রার ডা. নাগহাম; ডা. নওশাবা আমজাদ; পিমসের নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ ওসমান; এবং ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (CDA) জরুরি সেবা বিভাগের মহাপরিচালক ডা. আবদুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের জন্য চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা এবং এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছেন। এ ছাড়া, ওয়ার্ডে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে একটি শিশুর প্রাণ বাঁচানো এক নার্সকে রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা সিতারা-ই-খিদমত প্রদানের অনুমোদনও তিনি দিয়েছেন। ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একজন নার্স ও একজন নারী নিরাপত্তারক্ষীকে পরবর্তী তদন্ত চলা পর্যন্ত ওএসডি (OSD) করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ সালমানকে পিআইএমএস (PIMS)-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপসারিত কর্মকর্তাদের স্থলে নতুন নিয়োগ অবিলম্বে এবং একসঙ্গে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্ত কমিটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন বিলম্ব না করে প্রকাশ করতে হবে। বৈঠকের কিছুক্ষণ পরই জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফৌজদারি অবহেলার দায়ে দোষীরা কোনো ধরনের নমনীয়তা পাওয়ার যোগ্য নয়। এ ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যু একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যা পুরো জাতিকে শোকাহত করেছে। শিশুদের বাবা-মায়ের প্রতি আমার এবং সমগ্র জাতির গভীর সমবেদনা রইল। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে কারও ফৌজদারি অবহেলার কারণে আর কোনো মা তাঁর সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন না হন।”

বৈঠকে উপস্থাপিত ব্রিফিংয়ে হাসপাতালটির একাধিক কাঠামোগত ব্যর্থতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। তদন্তকারীরা দেখতে পেয়েছেন, অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতির জন্য পিআইএমএস (PIMS)-এ কোনো বিস্তারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) বা প্রশিক্ষণ ছিল না; হাসপাতালটির ১৩টি এসওপির মধ্যে মাত্র দুটি উপধারায় অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি সাড়াদানের কোনো উল্লেখ ছিল। ঘটনার সময় তত্ত্বাবধায়ক কর্মীরা দায়িত্বে ছিলেন না, যদিও ওয়ার্ডে দুজন নার্স, একজন নারী নিরাপত্তারক্ষী ও একজন হাউস অফিসার উপস্থিত ছিলেন। আগুন মাত্র প্রায় দুই মিনিটে পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার ছয় মিনিট পর জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে ডাকা হয়, এবং তারও আরও 15 মিনিট পর প্রথম জরুরি সাড়াদানকারী দল পৌঁছায়। ওয়ার্ডে কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বা স্প্রিংকলার ব্যবস্থা স্থাপন করা ছিল না, এবং এ বিষয়ে নবজাতক ওয়ার্ডটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা লঙ্ঘন করছিল বলে দেখা গেছে। অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতির সরাসরি দায়িত্বে হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না; বরং এ ভূমিকা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সহকারী পরিচালকের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল।

ব্রিফিংয়ে আরও উল্লেখ করা হয়, মাত্র এক মাস আগে, জুলাইয়ে, পিআইএমএসের নার্সিং হোস্টেলে আগুন লেগেছিল, অথচ পরে কোনো গুরুতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বৈঠকে আলাদাভাবে হাসপাতালটির সার্বিক জরাজীর্ণ অবস্থা ও অব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও অবহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তদন্ত কমিটির প্রধান শাহিদ খান ও এর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান এবং তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন, যার পর আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল মন্ত্রী আহাদ খান চিমা, আতাউল্লাহ তারার ও সৈয়দ মুস্তফা কামাল, কমিটির প্রধান শাহিদ খান, কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নবীল আওয়ান ও মেজর জেনারেল (অব.) খুরশিদ আতরা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সূত্র:
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (মিডিয়া উইং) প্রেস বিজ্ঞপ্তি, লাহোর, 29 আগস্ট, 2026

TT Foreign Desk

World news from The Thursday Times' foreign desk.

More from this desk

The Thursday Times, every morning

The day’s stories that matter, the argument, and what readers read most, in one email before work.

Free. One click to stop, any time.

The conversation

Comments are open on this story. An editor reads every one before it appears.

No one has said anything yet. Be the first.

Published by Thursday Media International thursday.media